Posts

Showing posts from May, 2015

তাবলীগ জামায়াতের ভায়েরা আল্লাহ'র কোরআন আর হাদিস গ্রন্থ থেকে কতুটুকু বয়ান করে ??

প্রশ্নঃ  তাবলীগ জামায়াতের ভায়েরা আল্লাহ'র কোরআন আর হাদিস গ্রন্থ থেকে কতুটুকু বয়ান করে ?? আমি কোন দিন তাদের দেখি নাই কোরআন থেকে কোন আয়াতের বয়ান করতে কিংবা বুখারী, মুসলিম ,আবুদাউদ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ থেকে কোন দিন বয়ান করতে। তাদের যদি প্রশ্ন করা হয় ঐ গ্রন্থগুলোর পরিবর্তে কেন আপনারা ফাজায়েলে আমল. ফাজায়েলে সাদাকাত কেন প্রাধান্য দিয়ে থাকেন? তখন তারা যুক্তিবাদীদের মতো যুক্তি দিয়ে বলে এগুলোতেই নাকি হাদীস কোরআনের সব দেওয়া আছে। ******************** ******************** উত্তরঃ আসলে তাবলীগ জামাতের কাজ সমূহ বুঝতে হলে জামাত বন্দী হয়ে সময় লাগানো প্রয়োজন। একদা আপনার মত মানুষের কাছে শুনে অথবা আংশিক দেখে তাবলীগের বিরুদ্ধে আমিও বলতাম। কিন্তু পরে সময় দিয়ে বুঝে আসছে এটা হক। এটা ইসলামের অবশ্য করনীয় কাজ। তাবলীগ জামাত হচ্ছে শিখি ও শিখাই। নিজের এসলাহ'ই মূল উদ্দেশ্য। যিনি কুরআন হাদীস জানেন অর্থাৎ আলেম তারা অবশ্যই কুরআন হাদীস থেকে বয়ান করেন। আর যার মধ্যে কুরআন হাদীসের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই তাকে বা তাদেরকে তাবলীগের ওলামায়ে কেরাম সংগত কারনেই কুরআন হাদীস বলে বয়ান করতে নিষেধ করেন। কুরআন হাদীস ...

জ্ঞানগর্ভ অভিযোগ - তাবলীগে কোরআনের অর্থ সহ পড়ার কথা কেন বলা হয় না ??

. জ্ঞানগর্ভ অভিযোগ - তাবলীগে কোরআনের অর্থ সহ পড়ার কথা কেন বলা হয় না ??  . . . . . জবাব - এদের কথাটা এরকম হয়ে গেলো না,"ভাই বুখারীর দাওয়াত বাদ দিয়ে হাদিসের দাওয়াত দিন। " ?? ভাই, ফাজায়েলে আমালেতো কোরআন হাদিস এবং এগুলোর ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়েছে। আর আপনি বললেন, কোরআনের অর্থ সহ পড়ার দাওয়াত দিতে। আমরা এর সম্পূর্ণ বিপক্ষে কারণ কোরআনের শানে নূযুল, এর তাফসির তথা interpretation ছাড়া শুধু অর্থ পড়ার দ্বারা কোরআন বুঝা যাবে না। তাই আমরা বলি, কোরআনের তাফসীর পড়তে। কিছু লোক এবং অনেক নাস্তিক তো শুধু এজন্যই নাস্তিক হয়েছে যে এরা শুধু কোরআনের অর্থ পড়ে অনেক ভুল বুঝেছে,তাফসির না পড়ার কারণে। এর পরও কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে উলামায়ে কেরামদের কাছ থেকে জেনে নেবে। ভাই, বলেন তো ফাজায়েলে আমালের মধ্যে ফাজায়েলে কোরআন চাপ্টারটা কেন রাখা হয়েছে ? সেটা সম্পূর্ণ পড়লে এমন বোকার মত মন্তব্য করতেন না।

আমরা তাবলীগ ওয়ালারা নাকি 'কূরআন ও সহীহ হাদীসের' উপর আমল করিনা grin emoticon আমরা নাকি বিদআতি , আর তারা শতভাগ কূরআন সূন্নাহ'র অনুসারী . . . . !

আমরা তাবলীগ ওয়ালারা নাকি 'কূরআন ও সহীহ হাদীসের' উপর আমল করিনা grin emoticon আমরা নাকি বিদআতি , আর তারা শতভাগ কূরআন সূন্নাহ'র অনুসারী . . . . ! দাবি করা কত সহজ অথচ বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা . . জনৈক ভদ্রলোক . . স্যুট-কোট কেতাদুরস্ত ! মুখ ক্লিনসেভ ! মাথা উন্মুক্ত ! পুরো মুখচ্ছবিটাই বৃক্ষ-গুল্মহীন এক বালুকাময় সুষ্ক মরুভূমি . . ! সে কিনা দীনের উপর চলনেওয়ালা,সূন্নতের উপর আমল করনে ওয়ালা কে দেখে বললেন - 'তোমরা ইসলাম কে ভুল বুঝেছো,তোমরা কূরআন ও সহীহ হাদিস মানোনা . . !' এই হল ফ্যাসন পূজারী দীন সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষদের কান্ড-কারখানা ! যে ব্যাক্তি নিজে ঠিক মত নামায পড়েনা,বেইমান ইহুদি-খৃস্টানদের কোট-স্যুট যার লেবাস,টুপি নেই,দাড়ি নেই, অথচ তিনি ইসলাম বুঝেছেন . . ! তিনি নাকি কূরআন-সূন্নাহ'র প্রকৃত অনুসারী . . !? আর সুন্নতের অনুসরণে ঈর্ষণীয় মাত্রায় উর্ত্তীর্ণ যারা তারা ইসলাম বুঝেনি . . কূরআন আর সহীহ হাদীস মানেনি . . কি আজগুবি হিসাব . . . . !??! তাহলে ইসলামটা আসলে কি . . ? কূরআন ও সূন্নাহ'র অনুসরণটা কি . . ?! ইসলামের বিধানাবলীর বিরুদ্ধাচারণ ?! নবীজি (সাঃ) এর পথ ...

তাবলীগ ওয়ালারা যখন ফাজায়েলে আমাল থেকে মুসাল্লিদের হাদীসের দরছ দেন, তখন কোন সাথী ক্বোরান তেলাওয়াত করতে চাইলে তেলাওয়াত করতে দেওয়া হয় না, এমন কি একা একা পড়তে চাইলে ও না -

তাবলীগ বিরুধিদের অভিযোগ শুনলে-ই বুঝা যায় তাবলীগ জামাতের প্রতি তারা কত টুকু হিংসা রাখে ! তাদের একটা অভিযোগ অনেক বার চোখে পড়েছে , তাবলীগ ওয়ালারা যখন ফাজায়েলে আমাল থেকে মুসাল্লিদের হাদীসের দরছ দেন, তখন কোন সাথী ক্বোরান তেলাওয়াত করতে চাইলে তেলাওয়াত করতে দেওয়া হয় না, এমন কি একা একা পড়তে চাইলে ও না ! আপনি একজন মাদ্রাসার শিক্ষক , আপনি হাদীসের দরছ দিচ্ছেন , এমতাবস্তায় কোন ছাত্র যদি ক্বোরান তেলাওয়াত করা শুরু করে ,এমন কি ক্লাশ ছেড়ে একা একা করতে চাইলে ও কি আপনি অনুমোদন দিবেন ? না ! কেননা সুরাহ আ'রাফের ২০৪ নং আইয়াতে হুকুম রয়েছে , ওয়া ইযা ক্বুরিয়াল ক্বোর'আনু ফাস্তামিয়ু লাহু...! যখন তুমাদের সামনে ক্বোরান পাঠ করা হয় তখন চুপ চাপ থেকে তা শ্রবন করো....! একন বলেন তো একজন ছাত্রের তেলাওয়াতের কারণে কোন শিক্ষক পুরা ক্লাস বন্দ্ব করে দিবেন ? কিংবা কোন মাদ্রাসায় এমন নিয়ম আছে নাকি যে , যখন যে ছাত্রের ইচ্ছে হবে ক্লাস ছেড়ে অন্যত্রে গিয়ে ক্বোরান তেলাওয়াত করতে পারবে ? ক্বোরান তেলাওয়াতের ও কিছু আদব/নিয়ম রয়েছে ! এসব প্রশ্ন কেবল তাদের হিংসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

ফিকহের প্রধান ২ টি বিষয় অযু এবং ফরয গোসল, কি নিয়মে করতে হয়, ফাযায়েলে আ’মলে সেটাও নেই!? তাহলে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কি জ্ঞান তারা অর্জন করছে?? কিচ্ছা-কাহিনি? -

>> শায়খ আব্দুর রাকিব মাদানি << . . . তাবলীগ জামাত বিরোধী অপপ্রচারের জবাব এই শায়েখ কি পরিক্ষায় নকল করে পাশ করে শায়েখ উপাধী ধারণ করেছে নাকি  grin emoticon  ?? ফাযায়েলে আমল মানে কি,তা সে জানে ?? ফাযায়েলে আমল হল আমলের ফাযায়েল ! যে মানুষটি আমলের উপর উঠতে পারেনি তাকে আমলের উপর উদ্বুদ্ধ করার জন্য হল ফাযায়েলে আমল ! আমলের ফাযায়েলের উপর লিখিত এটি একটি বিষয় ভিত্তিক কিতাব ! একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কিতাবটি লিখিত হয়েছে ! আর একটি কিতাবে সব বিষয় থাকতে হবে এমনতো কথা নেই ! সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় বিভিন্ন হাদীসের কিতাব থেকে আমলের ফাযায়েল সম্বলীত হাদীসগুলো খুজে খুজে বের করে আমল করা ! সেজন্য উলামাগণ বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে থাকা বিসৃত হাদীসগুলো আমলের সুবিধার জন্য আলাদা ভাবে ফাযায়েলের কিতাব গুলোতে সংকলীত করেছেন ! যাতে মানুষকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা সহজ হয় ! হযরত শায়খুল হাদীস (রহঃ) কর্তৃক রচিত এ কিতাবটি আমলের ফাযায়েল সম্পর্কিত একটি সংকলণ ! আর শুধু ফাযায়েলে আমল নয় বরং এরকম বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক যেমন ফাযায়েল,তারগীব,তারতীব ও তারহীব,আদব-আখলাক যুহদ ও পরকাল ভাবনা সম্পর্কে ২য় শতাব্দি থে...

অনেকের প্রশ্ন তাবলীগে কোরান হাদিস বাদ দিয়ে ফাজায়েলে আমাল নামের কিতাবের তালীম দেয়া হয় ,কাজেই এ তাবলীগ ঠিক না আসলে কি তাই ? [ পর্ব -৩ ]

তাহলে আসুন একটু পর্যালোচনা করে দেখি - আগে বলুনতো সদ্য ভূমিষ্ট শিশুকে ভাত খাওয়ানো হয় নাকি দুধ-মধু ? কেন ? এই প্রশ্নের যেই জবাব এটার ও সেই জবাব তার পরও একটু খোলাসা করে বললে বুঝতে আরও সহজ হবে ৷এটা কোন প্রচলীত কোন মাদ্রাসা নয় যে কোরআন হাদীস তাফসীর গ্রন্থগুলো তালিম দেয়া হবে। এখানে এমন কিছু কিতাব নির্ধারীত আছে যা দ্বারা স্বল্প সময়ের জন্য আসা মানুষগুলোর মাঝে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার আকাঙ্খা সৃষ্টি হয়। তাবলীগি ভাইদের কোরআন তাফছীর,হাদীস বা অন্য ইসলামী গ্রন্থ পড়তে নিষেধ নেই। তবে যে লোকটি এখনো অ, আ, ক, খ পড়তে শিখেনি। তাকে যদি একটি সাহিত্য গ্রন্থ দেয়া হয় তাহলে সেতো পড়তে পারবে না বরং তাকে দিতে হবে একটি আদর্শলিপি। যাতে সে পড়া শিখতে পারে। তদ্রুপ তাবলীগ জামায়াতে যে সমস্ত ভাইয়েরা আসেন তারা যাতে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের পড়া শিখতে পারে তার জন্য সে অনুযায়ী সহ উপায়ে ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাব হাদীস, হায়াতুস সাহাবা ইত্যাদি গ্রন্থ পড়তে দেয়া হয়। ফাযায়েল অর্থ হলো লাভ। মানুষ যে জিনিসে লাভ দেখে তা পাওয়ার জন্য জীবনও দিয়ে দেয় তাইনা । সে জন্য তাবলিগের ভাইদের দ্বীন...

অনেকের প্রশ্ন তাবলীগে কূরআন ও সহীহ হাদীসের কিতাবগুলো বাদ দিয়ে ফাজায়েলে আমালের তালীম দেয়া হয় কেন ?? - [ পর্ব - ২ ]

ফাযায়েলে আমল তো কোন হাদীসের কিতাব নয় ! এটি একটি দ্বীনী তারগীবী কিতাব। ফাযায়েলে আমলে যয়ীফ হাদীস থাকা নিয়ে অনেকেরই মাথা বেথার শেষ নেই ! তা পৃথিবীতে কি শুধু ফাজায়েলে আমালেই যয়ীফ হাদীস সংকলণ করা হয়েছে ?? আর কোন হাদীসের কিতাবে যয়ীফ হাদীস নাই !? সিহা সীত্তার মাঝে তিরমিজী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজার অনেক গুলো হাদীসই তো যয়ীফ বলেছেন মুহাদ্দিসগণ, এমনকি ইবনে মাজার অনেকগুলো হাদীস মওজু বা জাল বলা হয়েছে,l শুধু তাই নয় বরং বুখারী, মুসলীমের ও কিছু কিছু রাবির ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ বিরুপ মন্তব্য করেছেন। তাহলে যারা শুধু যয়ীফ-যয়ীফ করেন আপনাদের চোখে কি সেগুলো পড়েনা !? এই সমস্ত হাদীসের কিতাব থেকেই তো ফাযায়েলে আমল সংকলণ করা হয়েছে ! তাহলে মূল ছেড়ে শাখা ধরে টানা টানির কোন মানে হয় ?? সেই সমস্ত হাদীসের কিতাব সম্পর্কে কখনও প্রশ্ন তুলেছেন ?? আর বোখারী,মুসলিম,তীরমীযি,আবু দাউদ সহ অন্যান্ন হাদীসের কিতাবগুলি কোন নিদৃষ্ট বিষয়ের উপর রচিত হয়নি বরং সব বিষয়ে বিসৃত হাদীস রয়েছে ওই কিতাবগুলোতে । তাবলীগে যেহেতু সা়ধারন মানুষ যায় আর তাদের জন্য বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে ছড়িয়ে থাকা আমলের ফাযায়েল সংক্রান্ত হাদিসগুলি খু...

অনেকের প্রশ্ন তাবলীগে কূরআন ও সহীহ হাদীসের কিতাবগুলো বাদ দিয়ে ফাজায়েলে আমালের তালীম দেয়া হয় কেন ?? (১)

জবাব - একজন মানুষকে দিয়ে আমি কঠিন একটা কাজ করাবো ! এখন কঠিন কাজ করানোর জন্য আমি যদি তার মধ্যে জসবা সৃষ্টি না করতে পারি, তাহলে কি সেই কঠিন কাজটি কাউকে দিয়ে করানো সম্ভব ??! ইসলামের হুকুম আহকাম গুলোর ধরনও দেখেন - মক্কী জীবনে সেরফ নামাযের হুকুম আসছে তাও একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ! আর ১৩ বছর যাবত মেইনলি সাহাবীদের ইমানেরই তালিম দেয়া হয়েছে,তাদের মনকে আগে শক্ত করা হয়ছে যাতে পরবর্তিতে কোন কঠিন হুকুম আসলে যাতে তারা সহজেই মেনে নিতে পারে ! তো এই ১৩ বছর চলেছে ইমানের মেহনত,এরপর যখন ইমান পাকাপোক্ত হয়েছে এবং যে কোন আমলের কথা আসলে তারা মেনে নিতে পারে সেই যোগ্যতা যখন তৈরি হয়ে গেছে,তখন তাদের উপর একের পর এক আমলের হুকুম জারী করা হয়েছে ! এখন একজন মানুষের ইমানের দৃঢ়তা নাই,কাজের লাভ-ক্ষতির ভাল বুঝ নাই,তো এই মানষটাকে যদি আমি আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে চাই ?? তো প্রথমেই যদি আমি তার সামনে পেশ করি,যে শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে বরফশীতল পানি দিয়ে ওযু করে তার পর তাহাজ্জুযে দাড়াতে হবে,তাহলে কি ঐ লোকটা তা করবে ? যে লোকের কৃপণতায় হাতের পানি সরেনা,তাকে যদি আমি বলি তোমার তো ১ কোটি টাকা আছে,তা থেকে আড়াই লক্ষ টাকা তুমি গরীব...

ফাযায়েলে আমলের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন শায়েখ জাকারিয়া রহঃ ফাযায়েলে আমালে এমন একটি ঘটনা এনেছেন যাতে রাসূল সাঃ এর পরিবারের জন্য সম্মানহানীকর। সেটা হল- হযরত আলী রাঃ জান্নাতী হওয়া নিশ্চিত ও অকাট্য। সেই সাথে তিনি আশারায়ে মুবাশরার অন্তর্ভূক্ত। অথচ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাদ বিন জুবায়ের রহঃ কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, হযরত আলী রাঃ জান্নাতে আছে না জাহান্নামে? তখন সাদ বিন জুবাইর রহঃ বললেন-আমি যদি জান্নাতে গিয়ে দেখে আসি, এবং জাহান্নামে গিয়ে দেখে আসি তাহলে বলতে পারবো যে, তিনি জান্নাতী না জাহান্নামী। রাসূল সাঃ এর পরিবারভূক্ত ব্যক্তিত্ব জান্নাতী সাহাবীর ব্যাপারে এমন মন্তব্য করাটা চরম আপত্তিকর। সুতরাং এর দ্বারা আহলে বাইতকে অপমান করা হয়েছে। জবাব بسم الله الرحمن الرحيم হযরত সাদ বিন জুবায়ের ইজতিরারী হালাতে ছিলেন। অর্থাৎ তিনি তখন এমন কথা বলতে বাধ্য ছিলেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ চাচ্ছিল, যেকোন পদ্ধতিতে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে জল্লাদ দিয়ে হত্যা করাবে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যেহেতু হযরত আলী রাঃ কে দেখতে পারতো না, তাই এমন প্রশ্ন করেছে যেন সাদ ফেঁসে যায়। আর সে সুযোগ পেয়ে যায় তাকে হত্যা করার। এ কারণে সাদ ...

ফাযায়েলে আমালে বর্ণিত একটি হাদীসের উপর উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব

প্রশ্ন ফাযায়েলে আমালে একটি হাদীস আছে, হাদীসটি নিম্নরূপ عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك অনুবাদ-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আঃ থেকে সে পদস্খলন সংঘটিত হয়, [যার দরূন তাকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি সর্বদা কাঁদতে ছিলেন। আর দুই ও ইস্তেগফার পড়তে ছিলেন।] তখন তিনি একবার আসমানের দিকে মুখ করলেন, আর বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাঃ এর ওসীলায় আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন অহী নাজীল হয়-মুহাম্মদ কে? [যার অসীলা দিয়ে তুমি দুআ করছো?] তখন তিনি বলেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তখন আমি আরশে লেখা দেখলাম- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাস...

ফাযায়েলে আমালের উপর উত্থাপিত দু’টি অহেতুক অভিযোগের জবাব

প্রশ্ন: মীর্যা সজিব Subject: ফাযায়েলে আমাল Country : বাংলাদেশে Mobile : Message Body: আসসালামু আলাইকুম। তাবলীগ জামাত বিরোধী একদল ফাযায়েলে আমালের বিরুদ্ধে নিম্নের দু’টি অভিযোগ করেছে। দয়া করে এর সমাধান দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো। অভিযোগ নং-১ ফাযায়েলে আমাল ও ফাযায়েলে সাদাকাতে এমন কিছু হাদীস আছে, যাতে কোন রেফারেন্স নেই, আর যেসব হাদীস রেফারেন্সহীন হয়, তা মজবুত হয় না, সেসবের ব্যাপারে সন্দেহ রয়ে যায়, তা কি আসলেই হাদীস কি না? এ ব্যাপারে আপনাদের কী অভিমত? জবাব بسم الله الرحمن الرحيم এর জবাব শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহঃ নিজেই ফাযায়েলে কুরআনের শুরুতে দিয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন- “এখানে একটি বিষয় সম্পর্কে অবগত করা জরুরী মনে করছি। সেটা হল এই যে, আমি মেশকাত, তানকীহুর রুয়াত, মেরকাত এবং এহইয়াউল উলুম এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং মানজূরী রহঃ এর তারগীব কিতাবের উপর নির্ভর করেছি। আর অনেক বর্ণনা এসব থেকে নিয়েছি, এ কারণে এসবের রেফারেন্স দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। এছাড়া অন্য যেখান থেকেই নিয়েছি, তার রেফারেন্স উল্লেখ করেছি। {ফাযায়েলে আমাল, উর্দু এডিশন-২০৮} যাদের রেফারেন্সহীন বর্ণ...

তাবলীগের এক চিল্লা তিন চিল্লা ইত্যাদী কি জরুরী?

প্রশ্ন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমান ভাইদের ইসলামের দিকে ডাকার জন্যে চল্লিশ দিন(চিল্লা) কিংবা চার মাসের(তিন চিল্লা) যে চল আমরা দেখি এ সম্পর্কে কি বিধান রয়েছে ? জবাব بسم الله الرحمن الرحيم তাবলীগ জামাআত কোন নতুন দল বা সংগঠনের নাম নয়, বরং নবী করীম সাঃ এর তিরোধানের পূর্ব থেকেই বিদায় হজ্বের পর থেকে ব্যাপক হারে সাহাবায়ে কিরাম রাঃ এবং রাসূল সাঃ এর মৃত্যুর পর থেকে নিয়ে প্রত্যেক যুগেই কমবেশি সম্মিলিত ও বিচ্ছ্ন্নিভাবে দাওয়াতের এ দায়িত্ব পালিত হয়ে আসছিল। হযরত ইলিয়াস রহঃ ব্যাপক আকারে ও সংগঠিতরূপে সেটির পুনঃজাগরণের চেষ্টা করেছেন মাত্র। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেরই যেমন কর্মধারা ও সূচি থাকে, তিনিও তেমনি এ জামাতের জন্য কিছু কর্মধারা তৈরী করেছেন সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে অধিক উপকারী ও জরুরী বিষয় চিন্তা করে। পূর্ণ শরীয়তকে সামনে রেখে এর মাঝে কোন বিষয়গুলো প্রথমে আমলে আনতে পারলে পূর্ণ শরীয়তের উপর পাবন্দ হওয়া সহজ হয়ে যাবে তা চিন্তা করে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। এরই অন্তর্ভূক্ত ৬ গুণ, ৩ দিন, এক চিল্লা, তিন চিল্লা ইত্যাদী। যা কোনভাবেই শরীয়তের গন্ডির বাহির থেকে নয়। সেই সা...

ফাযায়েলে আমলের উপরে উত্থাপিত একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাবঃ ১

অভিযোগঃ ‘শাইখুল হাদিস’ যাকারিয়া সাহারানপুরির কিতাব ও তাবলিগ জামাতের মুল পাঠ্যসূচি ফাজায়েলে আমলে হাশরের মাঠ সম্পর্কে ভিত্তিহীন বর্ণনাঃ ‘’কিয়ামতের ভয়ঙ্কর দিনে যাহারা আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাইবে, তাহাদের তালিকায় ‘শরহে এহয়া’ কিতাবে ঐ সকল লোকদেরকেও উল্লেখ করা হইয়াছে যাহারা মুসলমানদের ছেলেমেয়েদেরকে কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়। এমনিভাবে ঐ সকল লোককেও তালিকাভুক্ত করা হইয়াছে যাহারা বাল্যকালে কুরআন শরীফ শিক্ষা করে এবং বড় হইলে কুরআন তেলাওয়াতের এহতেমাম করে’’ ফাজায়েলে আমল; ফাজায়েলে কুরআন- যাকারিয়া সাহানপুরি; অনুবাদক- মুফতি মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ; নজরে ছানী ও সম্পাদনা- হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ যুবায়ের ছাহেব ও মাওলানা রবিউল হক ছাহেব; কাকরাইল মসজিদ; (প্রকাশনা দারুল কিতাব, ৫০ বাংলাবাজার ঢাকা; প্রথম প্রকাশ- অক্টোবর ২০০১ ই; পৃষ্ঠা নঃ ১৪ ) নিঃসন্দেহে কুরআন মাজিদ শিক্ষা করা, কাউকে শিক্ষা দেয়া এবং নিজে তেলাওয়াত করা ও এহতেমাম করা বিশাল ফজিলত ও পুন্যের কাজ। কিন্তু আমরা কুরআন ও হাদীসের কোথাও তাদের ফজিলত হিসাবে কিয়ামতের কঠিন দিনে তারা ‘আরশের ছায়ার নিচে স্থান পাবেন’ এটা খুজে পাই না। একনজরে হাশরের মাঠে মানুষদ...

পরিবার রেখে দীর্ঘদিনের তাবলীগী সফর কি বৈধ?

প্রশ্ন আসাল্মুয়ালায়কুম! হুজুর আমি ফ্রান্স থেকে বলছি, আমি প্রায় তাবলীগের কাজ করতে গিয়া একটা প্রবলেম এ পরি আর তা হলো সবাই প্রশ্ন করে ১- আমাদের নবিজি কি কখনো তার বিবিদের রেখে অন্য জায়গায় গিয়া ৪০ বা ১২০ রাত্রি যাপন করেছেন কি না আর যদি করেন তার রেফারন্স কি? ২-ঘরে বিবি উপযোক্ত বোন বা মেয়ে রেখে কি তাবিলিগে যাওয়া যাবে তার রেফারেন্স ? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم আপনি প্রথমে একটি প্রশ্নের জবাব দিন। যদি কোন রেফারেন্স না পাওয়া যায় যে, রাসূল সাঃ বা রাসূল সাঃ এর আদেশে সাহাবায়ে কেরাম ৪০ দিন বা এর চেয়ে বেশি সময় বিবি-বাচ্চা রেখে বাহিরে থেকেছেন। তাহলে কি আপনি বলবেন যে, অর্থ কামানোর জন্য বিবি-বাচ্চা রেখে বিদেশে গিয়ে ৪০ দিন বা এর চেয়ে বেশি সময় থাকা হারাম? যদি তাই বলে থাকেন, তাহলে আপনি এ প্রশ্ন করতে পারেন। আর যদি বলেন, যে না এটি হারাম নয়। তাহলে দ্বীনের প্রচারের জন্য বাহিরে থাকাতে পরিবারের প্রতি এত অযথা দয়া উপছে উঠছে কেন? টাকা কামানোর জন্য বিদেশ গমন করে বছরের পর বছর পরে থাকলেও এ নিয়ে প্রশ্ন না করে, দ্বীনের কাজে বাহিরে থাকায় প্রশ্ন কেন? দ্বীনের কাজের সাথে এত দুশমনী...

ইলিয়াস রহঃ এর জারি করা পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করা কি শরীয়ত সম্মত? না কি বিদআত?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসার সন্তোষজনক জবাব প্রদান করে ইতিমধ্যেই আপনারা নিজেদের আলাদা উচ্চতায় দাখিল করিয়াছেন। আল¬াহ পাক আপনাদের আরও দীর্ঘ সময় দ্বীনের খেদমত করার তওফিক দান করুন। আমীন। আমার নিম্নলিখিত জিজ্ঞাসার সঠিক জবাব প্রদান করলে বাধীত হইবো: তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কোন কোন আলেমের নাক সিটকানি ভাব দেখলে মনে হয় এটা একটা অন্যায় কাজ। অথচ অনেক বুজুর্গানে দ্বীনই এটার সাথে সংযুক্ত আছেন। তাবলীগ জামাতের বৈধতা সম্পর্কে কোরআন-হাদীসের আলোকে জানতে চাই। ধন্যবাদান্তে শামীম আহমেদ জবাব بسم الله الرحمن الرحيم কুরআন হাদীসের দৃষ্টিতে তাবলীগ তাবলীগ মুসলিম মিল্লাতের অতি পরিচিত একটি শব্দ। যার অর্থ প্রচার ও প্রসার। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল বিশ্ব মানবের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাবার যে গুরু দায়িত্ব মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক সকল উম্মতে মুহাম্মদীর উপর অর্পিত হয়েছে, পরিভাষায় সেটাকেই তাবলীগ বলে। মূলত রাসূল সাঃ বিশ্ব মানুষের কাছে দ্বীনের এ দাওয়াত পৌঁছাবার ও প্রচার-প্রসারের মহান দায়িত্ব নিয়েই পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন। যেমন আগমণ করেছিলেন রাসূল সাঃ এর পূর্বে অগণিত নবী ও রাস...