সাহাবীর রক্ত পান সম্পর্কিত ফাযায়েলে আমলের ঘটনাটি কি বানোয়াট?
সাহাবীর রক্ত পান সম্পর্কিত ফাযায়েলে আমলের ঘটনাটি কি বানোয়াট?
প্রশ্ন
হযরত শায়েখ জাকারিয়া রহঃ কতিপয় সাহাবীগণ কর্তৃক সাহাবায়ে কেরামের রক্ত পান করা বিষয়ে ঘটনা নকল করেছেন। অথচ রক্ত হল নাপাক। তাহলে এ নাপাক রক্ত সাহাবাগণ কি করে পান করলেন?
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
শায়েখ জাকারিয়া রহঃ ফাযায়েলে আমালের উর্দু এডিশনের ১৮৮ নং পৃষ্ঠায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রহঃ এবং হযরত মালেক বিন সিনান রাঃ এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। যাতে এ উভয় সাহাবী কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পান করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। এখানে লক্ষ্যনীয় হল-
এ ঘটনাটি কি সনদযুক্ত কথা নাকি না?
উত্তর
অবশ্যই সনদযুক্ত ঘটনা। এবং এটি গ্রহণযোগ্য কিতাবে বর্ণিত।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রাঃ কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পান করার ঘটনা নিম্ন বর্ণিত কিতাবে রয়েছে। যথা-
১- মুস্তাদরাকে হাকেম-৩/৫৫৩
২- সুনানুল কুবরা লিলবায়াহাকী-৭/৬৭
৩- সিয়ারু আলামিন নুবালা-৩/৩৬৬
৪- মাযমাউজ যাওয়াদ-৮/২৭০
৫- কানযুল উম্মাল-১৩/৪৬৯
৬-আলখাসায়েলুল কুবরা লিসসুয়ুতী-২/২৫২
৭-আলইসাবাহ-২/৩১০
৮- হিলয়াতুল আওলিয়া-১/৩৩০
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রাঃ কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পান করার ঘটনা নিম্ন বর্ণিত কিতাবে রয়েছে। যথা-
১- মুস্তাদরাকে হাকেম-৩/৫৫৩
২- সুনানুল কুবরা লিলবায়াহাকী-৭/৬৭
৩- সিয়ারু আলামিন নুবালা-৩/৩৬৬
৪- মাযমাউজ যাওয়াদ-৮/২৭০
৫- কানযুল উম্মাল-১৩/৪৬৯
৬-আলখাসায়েলুল কুবরা লিসসুয়ুতী-২/২৫২
৭-আলইসাবাহ-২/৩১০
৮- হিলয়াতুল আওলিয়া-১/৩৩০
উক্ত বর্ণনা বিষয়ে মুহাদ্দিসীনদের মন্তব্য
# হাফেজ নূরুদ্দীন হায়সামী রহঃ এ ঘটনাকে রাসূল সাঃ এর বৈশিষ্টের অধ্যায়ে বর্ণনা করে বলেনঃ এটি তাবারানী ও বাজ্জারের বর্ণনা। আর মুসনাদে বাজ্জারের সমস্ত বর্ণনাকারী সহীহ এর রাবী। হুনাইদ বিন কাসেম রহঃ ছাড়া, তবে সেও সেকা তথা গ্রহণযোগ্য রাবী। {মাযমাউজ জাওয়েদ-৮/২৭০}
# ইমাম বায়হাকী রহঃ বলেনঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রাঃ কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পান করার ঘটনাটি হযরত আসমা বিনতে আবী বকর রাঃ এবং হযরত সালমান ফারসী রাঃ থেকেও একাধিক সনদে বর্ণিত। [সুনানুল কুবরালিল বায়হাকী-৭/৬৭}
# হাফেজ শামসুদ্দীন জাহাবী রহঃ বলেনঃ এ বর্ণনাটিকে ইমাম আবী ইয়ালা স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, এবং লিখেছেন যে, হুনাইদ রহঃ বর্ণনাকারীর উপর কেউ জরাহ করেছেন বলে আমার জানা নেই। {সিয়ারু আলামিন নুবালা-২/৩৬৬}
# আল্লামা আলী মুত্তাকী হানাফী রহঃ এ ঘটনা বর্ণনা করে বলেনঃ এ বর্ণনার সকল রাবী সেকা তথা গ্রহণযোগ্য। {কানযুল উম্মাল-১৩/৪৬৯}
# ইমাম বায়হাকী রহঃ বলেনঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রাঃ কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পান করার ঘটনাটি হযরত আসমা বিনতে আবী বকর রাঃ এবং হযরত সালমান ফারসী রাঃ থেকেও একাধিক সনদে বর্ণিত। [সুনানুল কুবরালিল বায়হাকী-৭/৬৭}
# হাফেজ শামসুদ্দীন জাহাবী রহঃ বলেনঃ এ বর্ণনাটিকে ইমাম আবী ইয়ালা স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, এবং লিখেছেন যে, হুনাইদ রহঃ বর্ণনাকারীর উপর কেউ জরাহ করেছেন বলে আমার জানা নেই। {সিয়ারু আলামিন নুবালা-২/৩৬৬}
# আল্লামা আলী মুত্তাকী হানাফী রহঃ এ ঘটনা বর্ণনা করে বলেনঃ এ বর্ণনার সকল রাবী সেকা তথা গ্রহণযোগ্য। {কানযুল উম্মাল-১৩/৪৬৯}
হযরত মালিক বিন সিনান রাঃ কর্তৃক রাসূল সাঃ এর রক্ত পানের ঘটনা নিম্নবর্ণিত কিতাবে বর্ণিত। যথা-
১- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী শাফেয়ী রহঃ এ ঘটনাটি ইবনে আবী আসেম, বাগবী, সহীহ ইবনুস সুকুন এবং সুনানে সাঈদ বিন মানসুরের হাওয়ালায় নকল করেন। {আল ইসাবাহ-৩/৩২৫, মিশর থেকে প্রকাশিত}
২- গায়রে মুকাল্লিদদের প্রসিদ্ধ মাদরাসা জামিয়াতুল উলুম আলআসরিয়্যা থেকে প্রকাশিত মুখতাসার সীরাতে রাসূল সাঃ লিইবনে আব্দুল ওহাব নজদী-৪০২।
মোটকথা
উভয় ঘটনাই সনদযুক্ত। তাই দলিল ছাড়া এ ঘটনা দু’টি অস্বিকার করতে পারি না। এছাড়া প্রবাহিত রক্ত নাপাক হওয়া সম্পর্কিত আয়াত এ ঘটনা দু’টি সংঘটিত হওয়ার আগের ঘটনা। প্রখ্যাত তাফসীরবীদ আল্লামা কুরতুবী রহঃ বলেন যে, এ প্রবাহিত রক্ত নাপাক হওয়া সম্পর্কিত আয়াত নাজীল হয়েছে বিদায় হজ্বের দিন আরাফার ময়দানে। {তাফসীরে কুরতুবী-২/২১৬}
হাফেজ ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহঃ লিখেন যে, মালিক বিন সিনান রাঃ গাযওয়ায়ে ওহুদে শহীদ হয়েছেন। {আলইসতিয়াব মাআল ইসাবাহ-৩/৩৫০}
আর ওহুদ যুদ্ধে এমন সাহাবীগণও শহীদ হয়েছেন যারা মদ পান করতেন। কারণ তখনো মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত আয়াত নাজীল হয়নি।
তেমনি রক্ত নাপাক হওয়া সংক্রান্ত আয়াত নাজীল না হওয়ার কারণে সাহাবীদ্বয় রক্ত পান করেছেন। তাই এতে প্রশ্ন করার কোন অবকাশই বাকি থাকে না। যদি প্রশ্ন করে থাকে কোন গায়রে মুকাল্লিদ তাহলে তাদের জন্য এটা জরুরী যে, তারা এটা প্রমাণ করবেন যে, সাহাবীদ্বয় রক্ত পান করেছেন রক্ত পান নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাজীলের পর। যদি না পারে, তাহলে এ প্রোপাগান্ডা বন্ধ করা উচিত।
দ্বিতীয় কথা হল
জমহুর ওলামাদের মতে রাসূল সাঃ এর ফুযালা তথা উচ্ছিষ্ট অংশ পাক। তাই আর কোন প্রশ্নই বাকি থাকে না।
দ্রষ্টব্য-
১- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ- ফাতহুল বারী-১/২৭২।
২- আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ, উমদাতুল কারী-১/৩৫।
৩- ইমাম নববী রহঃ,শরহে মুহাজ্জাব-১/২৩৪।
৪- মোল্লা আলী কারী রহঃ, জমউল ওসায়েল শুরুস শামায়েল-২/২।
৫- হাফেজ জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ, খাসায়েলে কুবরা-১/৭১।
৬- আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ, ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৩১৮।
৭- নিহায়াতুল মুহতাজ প্রণেতা-১/২৪২।
৮-মুগনিয়ুল মুহতাজ-১/৭৯।
৯-শায়েখ মুহাম্মদ আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলবী, মাদারেজুন নবুওত-১/৪৩।
প্রমুখ।
২- গায়রে মুকাল্লিদদের প্রসিদ্ধ মাদরাসা জামিয়াতুল উলুম আলআসরিয়্যা থেকে প্রকাশিত মুখতাসার সীরাতে রাসূল সাঃ লিইবনে আব্দুল ওহাব নজদী-৪০২।
মোটকথা
উভয় ঘটনাই সনদযুক্ত। তাই দলিল ছাড়া এ ঘটনা দু’টি অস্বিকার করতে পারি না। এছাড়া প্রবাহিত রক্ত নাপাক হওয়া সম্পর্কিত আয়াত এ ঘটনা দু’টি সংঘটিত হওয়ার আগের ঘটনা। প্রখ্যাত তাফসীরবীদ আল্লামা কুরতুবী রহঃ বলেন যে, এ প্রবাহিত রক্ত নাপাক হওয়া সম্পর্কিত আয়াত নাজীল হয়েছে বিদায় হজ্বের দিন আরাফার ময়দানে। {তাফসীরে কুরতুবী-২/২১৬}
হাফেজ ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহঃ লিখেন যে, মালিক বিন সিনান রাঃ গাযওয়ায়ে ওহুদে শহীদ হয়েছেন। {আলইসতিয়াব মাআল ইসাবাহ-৩/৩৫০}
আর ওহুদ যুদ্ধে এমন সাহাবীগণও শহীদ হয়েছেন যারা মদ পান করতেন। কারণ তখনো মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত আয়াত নাজীল হয়নি।
তেমনি রক্ত নাপাক হওয়া সংক্রান্ত আয়াত নাজীল না হওয়ার কারণে সাহাবীদ্বয় রক্ত পান করেছেন। তাই এতে প্রশ্ন করার কোন অবকাশই বাকি থাকে না। যদি প্রশ্ন করে থাকে কোন গায়রে মুকাল্লিদ তাহলে তাদের জন্য এটা জরুরী যে, তারা এটা প্রমাণ করবেন যে, সাহাবীদ্বয় রক্ত পান করেছেন রক্ত পান নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাজীলের পর। যদি না পারে, তাহলে এ প্রোপাগান্ডা বন্ধ করা উচিত।
দ্বিতীয় কথা হল
জমহুর ওলামাদের মতে রাসূল সাঃ এর ফুযালা তথা উচ্ছিষ্ট অংশ পাক। তাই আর কোন প্রশ্নই বাকি থাকে না।
দ্রষ্টব্য-
১- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ- ফাতহুল বারী-১/২৭২।
২- আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ, উমদাতুল কারী-১/৩৫।
৩- ইমাম নববী রহঃ,শরহে মুহাজ্জাব-১/২৩৪।
৪- মোল্লা আলী কারী রহঃ, জমউল ওসায়েল শুরুস শামায়েল-২/২।
৫- হাফেজ জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ, খাসায়েলে কুবরা-১/৭১।
৬- আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ, ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৩১৮।
৭- নিহায়াতুল মুহতাজ প্রণেতা-১/২৪২।
৮-মুগনিয়ুল মুহতাজ-১/৭৯।
৯-শায়েখ মুহাম্মদ আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলবী, মাদারেজুন নবুওত-১/৪৩।
প্রমুখ।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com
Comments
Post a Comment