তাবলীগ জামায়াতের ভায়েরা আল্লাহ'র কোরআন আর হাদিস গ্রন্থ থেকে কতুটুকু বয়ান করে ??
প্রশ্নঃ
তাবলীগ জামায়াতের ভায়েরা আল্লাহ'র কোরআন আর হাদিস গ্রন্থ থেকে কতুটুকু বয়ান করে ??
আমি কোন দিন তাদের দেখি নাই কোরআন থেকে কোন আয়াতের বয়ান করতে কিংবা বুখারী, মুসলিম ,আবুদাউদ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ থেকে কোন দিন বয়ান করতে।
তাদের যদি প্রশ্ন করা হয় ঐ গ্রন্থগুলোর পরিবর্তে কেন আপনারা ফাজায়েলে আমল. ফাজায়েলে সাদাকাত কেন প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?
তখন তারা যুক্তিবাদীদের মতো যুক্তি দিয়ে বলে এগুলোতেই নাকি হাদীস কোরআনের সব দেওয়া আছে।
********************
********************
উত্তরঃ
আসলে তাবলীগ জামাতের কাজ সমূহ বুঝতে হলে জামাত বন্দী হয়ে সময় লাগানো প্রয়োজন।
একদা আপনার মত মানুষের কাছে শুনে অথবা আংশিক দেখে তাবলীগের বিরুদ্ধে আমিও বলতাম। কিন্তু পরে সময় দিয়ে বুঝে আসছে এটা হক। এটা ইসলামের অবশ্য করনীয় কাজ। তাবলীগ জামাত হচ্ছে শিখি ও শিখাই। নিজের এসলাহ'ই মূল উদ্দেশ্য।
যিনি কুরআন হাদীস জানেন অর্থাৎ আলেম তারা অবশ্যই কুরআন হাদীস থেকে বয়ান করেন। আর যার মধ্যে কুরআন হাদীসের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই তাকে বা তাদেরকে তাবলীগের ওলামায়ে কেরাম সংগত কারনেই কুরআন হাদীস বলে বয়ান করতে নিষেধ করেন।
কুরআন হাদীস মুখস্ত না থাকলে দ্বীনের কথা বলা যাবে না। এমনত নয়। কাউকে নামাজের, ঈমানের দাওয়াত দেয়া তা কুরআন হাদীস মুখস্ত থাকলে দেয়া যাবে নয়ত নয় এমন নয়।
ভাই আমার নিজের উঁচু মাপের হক্কানী আলেমের বায়াত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এখলও সম্পর্ক আছে। তারপরও বলছি তাবলীগ জামাতে সুন্নাতের খুঁজাখুঁজি যা হয় এমনটি কোথাও নাই। আর সুন্নাতের এত্তেবাইত দ্বীন।
ভাই তাবলীগ জামাতে কুরআন হাদীস পড়তে মানা বা ফাযায়েলে আমল ছাড়া অন্য কিতাব পড়তে দেয়া হয়না এমন নয়। সাধারন লোকের সুবিধার জন্যই কুরআন হাদীসেরই সংকলন ফাযায়েলে আমাল।
এতে জয়িফ হাদীস থাকতেই পারে আমলের জন্য অনুপযুক্ত না। জয়িফ হাদীসকে অস্বীকার করার সুযোগ নাই যাতে সাহাবী আযমাঈনদের আমল আছে।
জামাতে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন কুরআন সহি করার মশক হয় প্রায় ঘন্টাখানেক। আর যারা কুরআন পড়তে জানেন তাদেরকে নিজের সময়ে কুরআন তিলাওয়াতের তারগীব দেয়া হয়। অন্তত প্রতিদিন একপাড়া কুরআন তিলাওয়াত। অথবা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব। কাজেই কুরআন হাদীস পড়া হয় না অথবা পড়তে দেয়া হয়না একথা ঠিক নয়।
তারপরও কেউ ভুল করতেই পারে। মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে কারও ব্যক্তিগত ভুলের কারনে যেমন ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না তেমনি কারও ব্যক্তিগত ভুলের জন্য তাবলীগ জামাত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না।
আমি তাবলীগের সাথে জড়িত। গত সোমবার অষ্ট্রেলিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের বেশ কয়েকটি শহর সফর করেছি। অনেক যায়গায় নিজের খরচে হোটেলেই থাকতে হয়েছে। নিজেদের গাড়ী, তেল খরচ ইত্যাদতে প্রতি জনের খরচ হয়েছে প্রায় ১০০০ ডলার।
অভিজ্ঞতায় বুঝলাম তাবলীগ অত্যান্ত জরুরী। যারা এদেশে মসজিদ বানিয়েছে যা এখনো আছে তাদের বংশধর মুর্তাদ হয়ে গেছে বা হচ্ছে। এদেরকে কে দাওয়াত দিবে?
তাই বলছি বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করুন। নতুবা শুধুমাত্র বিরোধিতা থেকে বিরত থাকেন। হকের বিরুদ্ধে গেলে ক্ষতি হবে এই ভয় করুন।
আর বুঝতে চাইলে আমার মত আল্লাহর কাছে বলুন,'আয় আল্লাহ তাবলীগ জামাত যদি হক হয় তবে তা বুঝার ও এতে মেহনত করার তাওফিক দান করুন। আর যদি হক না হয় এ থেকে আমাকে ও অন্যকে হেফাজত করুন'।
এরপর ইসলামের অন্য কাজে ব্রত হউন। নিজেদের মধ্যে ঐনৈক্য সৃষ্টি করার চেয়ে ঐক্য সৃষ্টি করা ও মুসলমানদের আখলাক দুরস্ত করায় সহায়ক হউন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন ! (আমীন)
লিখেছেন ভাই Nurul Hoque
তাবলীগ জামায়াতের ভায়েরা আল্লাহ'র কোরআন আর হাদিস গ্রন্থ থেকে কতুটুকু বয়ান করে ??
আমি কোন দিন তাদের দেখি নাই কোরআন থেকে কোন আয়াতের বয়ান করতে কিংবা বুখারী, মুসলিম ,আবুদাউদ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ থেকে কোন দিন বয়ান করতে।
তাদের যদি প্রশ্ন করা হয় ঐ গ্রন্থগুলোর পরিবর্তে কেন আপনারা ফাজায়েলে আমল. ফাজায়েলে সাদাকাত কেন প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?
তখন তারা যুক্তিবাদীদের মতো যুক্তি দিয়ে বলে এগুলোতেই নাকি হাদীস কোরআনের সব দেওয়া আছে।
********************
********************
উত্তরঃ
আসলে তাবলীগ জামাতের কাজ সমূহ বুঝতে হলে জামাত বন্দী হয়ে সময় লাগানো প্রয়োজন।
একদা আপনার মত মানুষের কাছে শুনে অথবা আংশিক দেখে তাবলীগের বিরুদ্ধে আমিও বলতাম। কিন্তু পরে সময় দিয়ে বুঝে আসছে এটা হক। এটা ইসলামের অবশ্য করনীয় কাজ। তাবলীগ জামাত হচ্ছে শিখি ও শিখাই। নিজের এসলাহ'ই মূল উদ্দেশ্য।
যিনি কুরআন হাদীস জানেন অর্থাৎ আলেম তারা অবশ্যই কুরআন হাদীস থেকে বয়ান করেন। আর যার মধ্যে কুরআন হাদীসের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই তাকে বা তাদেরকে তাবলীগের ওলামায়ে কেরাম সংগত কারনেই কুরআন হাদীস বলে বয়ান করতে নিষেধ করেন।
কুরআন হাদীস মুখস্ত না থাকলে দ্বীনের কথা বলা যাবে না। এমনত নয়। কাউকে নামাজের, ঈমানের দাওয়াত দেয়া তা কুরআন হাদীস মুখস্ত থাকলে দেয়া যাবে নয়ত নয় এমন নয়।
ভাই আমার নিজের উঁচু মাপের হক্কানী আলেমের বায়াত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এখলও সম্পর্ক আছে। তারপরও বলছি তাবলীগ জামাতে সুন্নাতের খুঁজাখুঁজি যা হয় এমনটি কোথাও নাই। আর সুন্নাতের এত্তেবাইত দ্বীন।
ভাই তাবলীগ জামাতে কুরআন হাদীস পড়তে মানা বা ফাযায়েলে আমল ছাড়া অন্য কিতাব পড়তে দেয়া হয়না এমন নয়। সাধারন লোকের সুবিধার জন্যই কুরআন হাদীসেরই সংকলন ফাযায়েলে আমাল।
এতে জয়িফ হাদীস থাকতেই পারে আমলের জন্য অনুপযুক্ত না। জয়িফ হাদীসকে অস্বীকার করার সুযোগ নাই যাতে সাহাবী আযমাঈনদের আমল আছে।
জামাতে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন কুরআন সহি করার মশক হয় প্রায় ঘন্টাখানেক। আর যারা কুরআন পড়তে জানেন তাদেরকে নিজের সময়ে কুরআন তিলাওয়াতের তারগীব দেয়া হয়। অন্তত প্রতিদিন একপাড়া কুরআন তিলাওয়াত। অথবা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব। কাজেই কুরআন হাদীস পড়া হয় না অথবা পড়তে দেয়া হয়না একথা ঠিক নয়।
তারপরও কেউ ভুল করতেই পারে। মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে কারও ব্যক্তিগত ভুলের কারনে যেমন ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না তেমনি কারও ব্যক্তিগত ভুলের জন্য তাবলীগ জামাত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না।
আমি তাবলীগের সাথে জড়িত। গত সোমবার অষ্ট্রেলিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের বেশ কয়েকটি শহর সফর করেছি। অনেক যায়গায় নিজের খরচে হোটেলেই থাকতে হয়েছে। নিজেদের গাড়ী, তেল খরচ ইত্যাদতে প্রতি জনের খরচ হয়েছে প্রায় ১০০০ ডলার।
অভিজ্ঞতায় বুঝলাম তাবলীগ অত্যান্ত জরুরী। যারা এদেশে মসজিদ বানিয়েছে যা এখনো আছে তাদের বংশধর মুর্তাদ হয়ে গেছে বা হচ্ছে। এদেরকে কে দাওয়াত দিবে?
তাই বলছি বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করুন। নতুবা শুধুমাত্র বিরোধিতা থেকে বিরত থাকেন। হকের বিরুদ্ধে গেলে ক্ষতি হবে এই ভয় করুন।
আর বুঝতে চাইলে আমার মত আল্লাহর কাছে বলুন,'আয় আল্লাহ তাবলীগ জামাত যদি হক হয় তবে তা বুঝার ও এতে মেহনত করার তাওফিক দান করুন। আর যদি হক না হয় এ থেকে আমাকে ও অন্যকে হেফাজত করুন'।
এরপর ইসলামের অন্য কাজে ব্রত হউন। নিজেদের মধ্যে ঐনৈক্য সৃষ্টি করার চেয়ে ঐক্য সৃষ্টি করা ও মুসলমানদের আখলাক দুরস্ত করায় সহায়ক হউন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন ! (আমীন)
লিখেছেন ভাই Nurul Hoque
Comments
Post a Comment