ফাযায়েলে আমাল কিতাবে কী আছে?
এখানে মাত্র একটি অধ্যায়ের (নামাজ) বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
ফাযায়েলে আমাল কিতাবের নামাজ অংশে মোট মূল ৪০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এখানে মুল হাদিসের রেফা: দেওয়া হল
ক. বুখারী/মুসলিম/উভয়টা: ৯
খ. তিরমিযী/নাসাঈ/আবু দাউদ/ইবনে মাযা: ১৯
গ. আহমদ/বায়হাকী: ৭
ঘ. তারগীব/তাবরাণী/দু: মানছুর/হাকেম/মা; আবরার: ৫
খ. তিরমিযী/নাসাঈ/আবু দাউদ/ইবনে মাযা: ১৯
গ. আহমদ/বায়হাকী: ৭
ঘ. তারগীব/তাবরাণী/দু: মানছুর/হাকেম/মা; আবরার: ৫
অর্থাৎ, ৪০ টির মধ্যে ২৮টি কুতুবে ছিত্তাহ থেকে বর্ণিত, বাকি হাদিস গুলি একাধিক কিতাব থেকে বর্ণিত। আর মাত্র ৩টি হাদিস তথাকথিত দুর্বল কিতাব থেকে একক ভাবে বর্ণিত। উদাহরন স্বরুপ ৩৯ নং এ বর্ণিত দু: মানছুর কিতাবের হাদিসটি নিচে দেখুন. উল্লেখ্য মূল হাদিসে ব্যাখ্যা/ ফায়দা-এ লিখিত হাদিসের সংখ্যা আমার গননায় মোট: ১৫৬টি এর মধ্যে শায়খুল হাদীস (রহ:) মাত্র ৪০টি হাদিসের রেফা: দিয়েছেন। যেমন নামাজের ফজিলত অধ্যায়ের ১০নং হাদিসের ফায়দা- মোট ৪৭টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে ৪০হাদিসের ফজিলত হিসাবে বর্ণিত হাদিসগুলার রেফা: দেননি এবেং অনুবাদক শুধু হাদিসের তরজমাই লিখেছেন। ফাযায়েলে নামাজ অংশের ১২৭ পৃষ্ঠায় তিনি নূন্যতম ১৯৬ টি হাদিস পেশ করেছেন (আমার গননায় কোন হাদিস বাদও পড়তে পারে)। তিনি নামাজের ফজিলত অধ্যায়ে মোট ৩৮টি কোরআনের আয়াত/আয়াতাংশ উল্লেখ করেছেন।
পুরা কিতাবে ১০১৫পৃষ্ঠা (অনুবাদ) আছে, গড় করলে এই কিতাবে তো ১৫৬৬টি হাদিস এবং ৩০৪টি কোরআনের আয়াত থাকবে।সুতরাং এটা যে কোরআন হাদিসের কিতাব তাতে সন্দেহ কোথায়?
৩৯ নং হাদিস : হুজুর সা: কে কেহ হক তাআলা শানহুর এরশাদ, ”নিশ্চই নামাজ র্নিলজ্জপনা ও অশ্লীল কাজ সমূহ হইতে বিরত রাখে” সর্ম্পকে জিগগাসা করিলেন। তখন হুজুর সা: এরশাদ ফরমাইলেন, যে ব্যক্তির নামাজ এইরুপ হয়না এবং তাহাকে র্নিলজ্জপনা ও অশ্লীল কার্যকলাপ হইতে বিরত রাখে না ঊহা নামাজই নহে। (দুরুরে মানছুর)
আমি নিশ্চিত (সাহীহ আল্লামা) নাসিরউদ্দিন আলবাণী সাহেব কিতাবের নাম দেখেইে বলবেন/বলিয়াছেন ”বাতিল”.। পাঠকের কাছে বিচার দিলাম এই হাদিসের সনদ দুর্বল যদি হয় (জানিনা, ধরে নিলাম) তার পরও কি মাত্র আলবাণী মহোদয়ের কথায় হুজুর সা: এর হাদিসকে বাদ দিয়ে দিব? ভাই সকল হুজুর সা:এর নামে মিথ্যা হাদিস বানানো আর উনার বাণীকে নিজের পছন্দের নেতার কথামত (যার আবার শিক্ষক নাই, নিজে নিজেই শিখে আল্লামা) বাতিল বলা কি একই কথা নয়? এটা কি হাদিস অস্বীকার করা নয়?
যদি এটা হাদিস অস্বীকার করা না হয় তবে বলুন কিভাবে হাদিস অস্বীকার করা হয়?
যদি এটা হাদিস অস্বীকার করা না হয় তবে বলুন কিভাবে হাদিস অস্বীকার করা হয়?
দেখুন আহলে কোরআনের বিরোধিতা করার জন্য কত সুন্দরভাবে হাদীসকে কুরআনের পর্যায়ে নিয়ে গেল আহলে হাদীস পত্রিকা আত-তাহরীক (অক্টোবর ২০১৩ প্রশ্ন-১/১)। (খ) হাদীছ’ সরাসরি আল্লাহর ‘অহী’ (গ) হাদীছের বিরোধিতা করার কোন সুযোগ মুমিনের নেই। (ঘ) হাদীছের অনুসরণ অর্থ আল্লাহর অনুসরণ। (ঙ) হাদীছের বিরোধিতা করলে দুনিয়া ও আখেরাতে ফিৎনায় পড়া অবশ্যম্ভাবী। (চ) হাদীছ হল কুরআনের ব্যাখ্যা। (বিস্তারিত নিচে দেখুন এবং পত্রিকাটির ডাউনলোড লিংক ও দেওয়া আছে)
এখন গভীরভাবে চিন্তা করুন হাদীস প্রকারন্তে যেটা আল্লাহর বাণী তা কি শুধু সনদ দুর্বল হওয়ার কারনে (এবং যা আলিমদের ব্যক্তিগত মতামত) আপনি ছুড়ে ফেলবেন? হাস্যকর ব্যাপার হলো এই আলিমরা আবার মতও পরিবর্তন করে; একই হাদীসকে একবার বলে সাহীহ আবার কিছুদিন পরে সেটা যয়ীফ বলে।
পরিশেষে ওদের ভাষায়ই আমি জবাব দিলাম যে, (ঙ) হাদীছের বিরোধিতা করলে দুনিয়া ও আখেরাতে ফিৎনায় পড়া অবশ্যম্ভাবী।”
****************************************************************
এখন সিরিয়াল অনুযায়ী রেফা: দেখুন-
নামাজের ফজিলত
****************************************************************
এখন সিরিয়াল অনুযায়ী রেফা: দেখুন-
নামাজের ফজিলত
১. বুখারী, মুসলিম ২. আহমদ, তারগীব ৩. নাসাঈ, আহমদ, তাবরাণী ৪. বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাযা ৫. আবু দাউদ, আহমদ, দু: মানছুর ৬. আহমদ ৭. নাসাঈ, আহমদ, ইবনে মাযা ৮. তারগীব,তাবরাণী ৯. আবু দাউদ, ইবনে মাযা, নাসাঈ, দু: মানছুর ১০. আবু দাউদ
নামাজ না পড়ার ভয়াবহ পরিনতি
১১. আবু দাউদ, ইবনে মাযা, নাসাঈ, তিরমিযী ১২. ইবনে মাযা, তারগীব, দু: মানছুর ১৩. আহমদ, তারগীব, তাবরাণী ১৪. নাসাঈ, আহমদ, তাবরাণী ১৫. তিরমিযী, আহমদ, হাকেম, তারগীব
১৬. আহমদ,দু: মানছুর, তাবরাণী ১৭. ----(কম্পাইলড) ১৮. মা; আবরার ১৯. দু: মানছুর
১৬. আহমদ,দু: মানছুর, তাবরাণী ১৭. ----(কম্পাইলড) ১৮. মা; আবরার ১৯. দু: মানছুর
জামাতের ফজিলত
২০. বুখারী, মুসলিম, তারগীব ২১. বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযা
২২. মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাযা ২৩. মুসলিম, তিরমিযী ২৪. মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ ২৫. তারগীব,তাবরাণী ২৬. তারগীব,তাবরাণী, ইবনে মাযা
২২. মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাযা ২৩. মুসলিম, তিরমিযী ২৪. মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ ২৫. তারগীব,তাবরাণী ২৬. তারগীব,তাবরাণী, ইবনে মাযা
জামাত ত্যাগ করার শাস্তি
২৭. তিরমিযী, ইবনে মাযা ২৮. তারগীব,তাবরাণী, আহমদ ২৯. মুসলিম,আবু দাউদ, ইবনে মাযা ৩০. নাসাঈ, আবু দাউদ, আহমদ ৩১. তিরমিযী, তারগীব ৩২. দু: মানছুর
খুশু খুজুর বর্ণনা
৩৩. নাসাঈ, আবু দাউদ ৩৪. বায়হাকী, তারগীব,তাবরাণী ৩৫. ইবনে মাযা, নাসাঈ, তিরমিযী ৩৬. তারগীব, তাবরাণী ৩৭. তাবরাণী, আহমদ ৩৮. তিরমিযী ৩৯. দু: মানছুর ৪০. মুসলিম, দু: মানছুর
**************************************************************
আত-তাহরীক- অক্টোবর ২০১৩
প্রশ্ন (১/১) আহলে কুরআন সম্পর্কে যারা হাদীস মানা, সুন্নাত নামাজ পড়া জরুরী নয় বলে...।।।
প্রশ্ন (১/১) আহলে কুরআন সম্পর্কে যারা হাদীস মানা, সুন্নাত নামাজ পড়া জরুরী নয় বলে...।।।
উত্তরঃ
(ক) হাদীছের ব্যাপারে এরূপ বক্তব্য স্পষ্ট কুফরী। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের। যদি তারা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে (তারা জেনে রাখুক যে,) আল্লাহ কখনোই কাফেরদের ভালবাসেন না’ (আলে ইমরান ৩/৩২)। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয়সমূহে তোমাকেই একমাত্র সমাধানকারী হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়ছালা সম্পর্কে তারা তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ পোষণ করবে না এবং অবনতচিত্তে তা গ্রহণ করবে’ (নিসা ৪/৬৫)।
(ক) হাদীছের ব্যাপারে এরূপ বক্তব্য স্পষ্ট কুফরী। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের। যদি তারা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে (তারা জেনে রাখুক যে,) আল্লাহ কখনোই কাফেরদের ভালবাসেন না’ (আলে ইমরান ৩/৩২)। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয়সমূহে তোমাকেই একমাত্র সমাধানকারী হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়ছালা সম্পর্কে তারা তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ পোষণ করবে না এবং অবনতচিত্তে তা গ্রহণ করবে’ (নিসা ৪/৬৫)।
(খ) ‘হাদীছ’ সরাসরি আল্লাহর ‘অহী’। আল্লাহ বলেন, ‘রাসূল তাঁর ইচ্ছামত কিছু বলেন না। কেবলমাত্র অতটুকু বলেন, যতটুকু তাঁর নিকটে ‘অহী’ করা হয়’ (নাজম ৫৩/৩-৪)।
(গ) হাদীছের বিরোধিতা করার কোন সুযোগ মুমিনের নেই। আল্লাহ বলেন, ‘কোন মুমিন পুরষ ও নারীর পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া ফায়ছালার ব্যাপারে (ভিন্নমত পোষণের) কোনরূপ এখতিয়ার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হ’ল’ (আহযাব ৩৩/৩৬)। তিনি বলেন, ‘আর রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক’ (হাশর ৫৯/৭)। কুরআন ও হাদীছ দু’টিই রাসূল (ছাঃ) দিয়েছেন। অতএব দু’টিই গ্রহণ করতে হবে। একটি গ্রহণ ও অপরটি বর্জন তাঁর অবাধ্যতা করার শামিল।
(ঘ) হাদীছের অনুসরণ অর্থ আল্লাহর অনুসরণ। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহ আনুগত্য করল, আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, আমরা তাদের উপরে তোমাকে পাহারাদার হিসাবে প্রেরণ করিনি’ (নিসা ৪/৮০)।
(ঙ) হাদীছের বিরোধিতা করলে দুনিয়া ও আখেরাতে ফিৎনায় পড়া অবশ্যম্ভাবী। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যারা রাসূলের আদেশ-নিষেধের বিরোধিতা করে, তারা যেন এ বিষয়ে ভয় করে যে, তাদেরকে (দুনিয়াবী জীবনে) গ্রেফতার করবে নানাবিধ ফিৎনা এবং (পরকালীন জীবনে) গ্রেফতার করবে মর্মান্তিক আযাব’ (নূর ২৪/৬৩)।
(চ) হাদীছ হ’ল কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা তোমার নিকটে ‘যিক্র’ (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের উদ্দেশ্যে নাযিলকৃত বিষয়গুলি তাদের নিকটে ব্যাখ্যা করে দাও এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে’ (নাহ্ল ১৬/৪৪)।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তোমরা ছালাত প্রতিষ্ঠা কর’। এক্ষণে ছালাত কিভাবে আদায় করতে হবে? ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশার ছালাত কত রাক‘আত কিভাবে আদায় করতে হবে? তা জানতে হ’লে হাদীছের দিকে ফিরে যেতে হবে। এভাবে ছালাত, ছিয়াম, যাকাত ও হজ্জের নিয়ম-কানূন ইত্যাদি ইবাদতগত বিষয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, হালাল-হারাম, বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বিধানসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলীর বিস্তারিত বিধি-বিধান সমূহ কেবলমাত্র হাদীছের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। সুতরাং হাদীছের অনুসরণ ব্যতীত ইসলামের অনুসরণ বিলাসী কল্পনা বৈ কিছুই নয়। ‘ফরয’ ব্যতীত বাকী সবই ‘নফল’ বা অতিরিক্ত। তন্মধ্যে যেসব ‘নফল’ নিয়মিত করা হয়, সেগুলিকে ‘সুন্নাত’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অনিয়মিত ও নিয়মিত আচরণ ও কর্মের ভিত্তিতে এগুলি শারঈ পরিভাষা হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। প্রকৃত মুমিন কখনো কেবল ফরয আদায়ে সন্তুষ্ট হবে না। বরং সে অবশ্যই সুন্নাত ও নফল সমূহ আদায় করবে। কেননা কিয়ামতের দিন ফরযের কোন ত্রটি হ’লে নফল ইবাদতের নেকী দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করা হবে (আবুদাঊদ, তরমিযী, মিশকাত হা/১৩৩০)।
Comments
Post a Comment